বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

পিআইবি আন্তরিক হলে চারশ’ বছর অপচয় রোধ সম্ভব



সৈয়দ ইবনে রহমত: 
গত ১৭ মে ২০১৭ যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত ‘পিআইবি ডিপ্লোমাধারীদেরও ২ বছরের মাস্টার্স করতে হবে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি পড়ে হতাশ হয়েছি। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক শাহ আলমগীরের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘যারা বিগত সময়ে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা এক বছরের মাস্টার্স কোর্সে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। তাদেরও দুই বছরের মাস্টার্স কোর্সে অংশগ্রহণ করতে হবে।’


অথচ, আমরা দীর্ঘ সময় ধরেই শুনে এসেছি যে, পিআইবিতে মাস্টার্স কোর্স চালু হতে যাচ্ছে। আর শুরু থেকে এটাও জেনে এসেছি যে, পিআইবি থেকে ডিপ্লোমা কোর্সে উত্তীর্ণরা এক বছরের কোর্স করেই মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে পিআইবি থেকে যারা সাংবাদিকতায় এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের কোর্স সম্পন্ন করে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ পেয়েছেন। এমনকি ভবিষ্যতেও পিআইবি থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা একই সুবিধা পাবেন। উল্লেখিত প্রতিবেদনটিতেও এ প্রসঙ্গে বলা আছে, ‘পিআইবি থেকে এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সধারী শিক্ষার্থীরা যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একবছর অধ্যায়নে পাবে মাস্টার্সের সার্টিফিকেট।’ কিন্তু পিআইবি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ পেতে হলে আরও দুই বছর অধ্যয়ন করতে হবে!

কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে পিআইবির মহাপরিচালক যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেছেন, ‘আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, এটা সম্ভব নয়। কারণ যারা মাস্টার্স কোর্সের প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করবে তারা সবাই কি ডিপ্লোমা কোর্সে অংশ গ্রহণ করবে? আর যারা ডিপ্লোমা কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন তারা কেন অধিকাংশ বিষয় পুনরায় অধ্যায়ন করবেন? ফলে সমস্যা থেকেই যায়। তাই তাদেরকে মাস্টার্স করতে হলে দুই বছরের কোর্সে অংশগ্রহণ করতে হবে। পাঠ্যসূচি যেভাবে করা হয়েছে তাতে ডিপ্লোমার সঙ্গে মাস্টার্স কোর্সকে কোনোভাবেই মিলানো সম্ভব নয়।’ 

আসলে এটা খুব বড় কোনো সমস্যা নয়। কেননা, মহাপরিচালক মহোদয়ের কথা থেকেই এটা স্পষ্ট যে, মূল সমস্যা পাঠ্যসূচির। পাঠ্যসূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, তাতে ডিপ্লোমা কোর্স এবং মাস্টার্সের প্রথম বর্ষের কোর্সের বিষয়গুলোকে সমন্বয় করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় একটি প্রশ্ন উঠতে পারে যে, একই প্রতিষ্ঠান পিআইবি যেখানে তারা দুটি কোর্সের মধ্যে সমন্বয় করতে পারছে না, সেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেটা কীভাবে সমন্বয় করছে? নিশ্চয় এটা অসম্ভব কিছু নয় বলেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পারছে। এখন প্রশ্নটি উল্টোভাবে এভাবে করা যেতে পারে যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পারলে পিআইবি কেন পারবে না?

আসলে একটু আন্তরিক হলেই এটা সম্ভব। যেমন শুরু থেকেই পিআইবির সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের এই সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমাদের প্রস্তাব ছিল, পিআইবির মাস্টার্স কোর্সের পাঠ্যসূচি এমনভাবে প্রনয়ণ করা হোক যাতে করে ডিপ্লোমা কোর্স এবং মাস্টার্সের প্রথম বর্ষের পাঠ্যসূচিতে মিল থাকে বা একই ধরনের হয়। তাহলেই ডিপ্লোমাধারীরা সরাসরি দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হয়ে এক বছর পড়াশোনা করেই মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ পেতে পারবেন। আর যারা শুধুমাত্র মাস্টার্সে ভর্তি হবেন তাদের জন্য প্রথম বর্ষ এবং দ্বিতীয় বর্ষ মিলে দুই বছর পড়াশোনা করতে হবে। পিআইবির এমন সিদ্ধান্তের কারণে যদি দুই বছরের মাস্টার্স কোর্স করতে হয় তাহলে আমার মতো শত শত ডিপ্লোমা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হতাশ হবেন, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

উক্ত প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, পিআইবিতে এখন ১৬তম স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ব্যাচ চলমান। প্রতিটি ব্যাচে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী হিসেবে এ পর্যন্ত ৮শ’ শিক্ষার্থী এ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। এদের অন্তত অর্ধেক অর্থাৎ অন্তত ৪শ’ জন অপেক্ষা করে আছে পিআইবিতে মাস্টার্স চালু হলে, সে কোর্সটা সম্পন্ন করবেন। এখন যদি তাদেরকে আবার দুই বছরের কোর্সই করতে হয় তাহলে প্রত্যেকের জীবন থেকে অতিরিক্ত একটি বছর অপচয় হয়ে যাবে। আর সব শিক্ষার্থীর জীবন থেকে অপচয় হওয়া মোট সময়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪শ’ বছর! বিষয়টি কি ভাবা যায়? তাও আবার কোর্স সিলেবাস সমন্বয় করতে না পারাই যেখানে একমাত্র কারণ, যদিও সেটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পেরেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান পিআইবি তার নিজের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখবেন বলে আশা করি।

লেখক : পিআইবি থেকে ১২তম ব্যাচে ডিপ্লোমা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থী।

[প্রথম প্রকাশ: মে ১৯, ২০১৭, ১৩:১৫, Jamunanews24.com (সাইটটি আপাতত বন্ধ আছে)]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন