সাংবাদিকতা বলতে আসলে কী বুঝায়, কেমন করেই-বা সেটা করতে হয় তা না জেনেই এ পেশায় এসেছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, কিছু কিছু লিখতে পারি বটে, কিন্তু সেটার নাম আর যাইহোক, সাংবাদিকতা বলা যায় না। একাডেমিক শিক্ষা নিয়েছি বিজ্ঞান বিভাগে। সাংবাদিকতার সাথে তার কোন যোগসূত্র নেই। তাই সে শিক্ষা সার্টিফিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যতটা পারল সাহস যোগাল, কিন্তু কাজের টেবিলে অসহায় হয়ে পড়ল।
সাংবাদিকতা করতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর। দৈনিক ইনকিলাবের ক্যারিয়ার অ্যান্ড কর্পোরেট পাতায় কাজ করার মধ্য দিয়ে শুরু। এরপর ক্যারিয়ার এবং কর্পোরেট পাতা আলাদা হয়ে গেল। ক্যারিয়ার অ্যান্ড কর্পোরেট পাতা প্রকাশ হতো সপ্তাহে একদিন। কিন্তু আলাদা হওয়ার পর ক্যারিয়ার পাতা থেকে গেল একদিনেই, আর কর্পোরেট পাতা প্রকাশ হতে লাগল সপ্তাহে ছয় দিন। সপ্তাহে ছয় পাতার মেটার করা থেকে শুরু করে মেকাপ করা পর্যন্ত দায়িত্ব পড়ল আমার এবং নজরুল ইসলাম বশির ভাইয়ের ওপর।
ক্যারিয়ার অ্যান্ড কর্পোরেট পাতায় ছিলাম সাব-এডিটর আবদুল ওয়াদুদ ভাইয়ের সহকারী। আর কর্পোরেট পাতায় যোগদিলাম সাব-এডিটর হয়ে। একদিনের যায়গায় ছয় দিনের কাজ মাথার ওপর চেপে বসল। কেমনে কী করব, কিছুই বুঝতে পারি না। চারপাশ যেন অন্ধকার হয়ে আসতে লাগল। কিন্তু সহকর্মী বশির ভাইয়ের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত কোন কিছুই আটকে থাকত না। এসব কাজে তার পূর্বাভিজ্ঞতা এবং পারদর্শীতা মুগ্ধ হয়ে দেখি আর যতটা পারি তার সাথে কাজে আঞ্জাম দিয়ে যাই।
এভাবেই চলছিল, কিন্তু ১৩ অক্টোবর ২০১১ খ্রি. সা্প্তাহিক মিটিংয়ে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত হলো- সেদিন থেকেই আমাকে আদিগন্ত পাতা দেখতে হবে। আদিগন্ত দৈনিক ইনকিলাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাতাগুলোর একটি। ইংরেজিতে অপজিট এডিটরিয়াল বলতে যা বোঝায় দৈনিক ইনকিলাবের আদিগন্ত পাতা সেটিই। এখানে দেশের প্রখ্যাত এবং গুণী ব্যক্তিদের প্রবন্ধ ছাপা হয়। পাতাটি প্রকাশিত হয় সপ্তাহে তিনদিন। শুরুতে আমাকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলো দুই দিন করে দেখার জন্য।
চোখে-মুখে আবার অন্ধকার দেখা শুরু করলাম। এতগুরুত্বপূর্ণ দেখতে হলে যে গুণাগুণ এবং অভিজ্ঞতা থাকা দরকার তার কোনটাই আমার নেই। তা ছাড়া একাডেমিক শিক্ষাও এটাকে সাপোর্ট করে না। অতএব এ অবস্থায় কী করণীয় আছে আমার। যাইহোক, শুরু করলাম নিজের সকল আন্তরিকতা এবং মনোযোগ দিয়ে। ব্লগিং করার নেশা ছিল সেটা ছাড়তে হলো। কিন্তু তারপরও মনে শান্তি পাচ্ছিলাম না, নিজের কাজ নিয়ে।
ভাবতে থাকলাম যে করেই হোক, আমাকে এ বিষয়ে জানতে হবে, পড়তে হবে এবং কাজ শিখতে হবে। কিন্তু কোথায় শেখা যায়? খোঁজ পেলাম বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট(পিআইবি)-তে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ আছে। ছুটলাম পিআইবির খুঁজে। দেখা হলো পিআইবি ডিপ্লোমা কোর্স সংশ্লিষ্ট অফিস সহকারী অালামীন ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, আগের দিন ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেছে এবং আজ (আমি যেদিন গিয়েছি) তাদের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়া ভর্তি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। মন খারাপ হয়ে গেল, তবু তাকে বোঝালাম যে, আমার কোর্সটা করা খুবই দরকার। ভর্তি হওয়ার যদি কোন ধরনের সুযোগ থাকে, তাহলে আমাকে সে ব্যবস্থার কথা বলেন। তিনি অনেক ভেবেচিন্তে আমাকে নিয়ে গেলেন কোর্স কো-অর্ডিনেটর শেখ মজলিশ ফুয়াদ ভাইয়ের কাছে।
ফুয়াদ ভাই আমার বিষয়টা শুনে খুব আফসোস করলেন। এরপর বললেন, ৫০ জন ভর্তি করা হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেছেন ৭০ জনের বেশি। তবে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একজনও ভর্তি হতে অপারগ হয় তাহলে তিনি আমাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেবেন। আমিও আশায় বুক বেঁধে পিআইবিতে দিনে একবার করে যেতে থাকলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তিনদিন বাকি থাকতেই ৫০ জনের কোটা ফিলাপ হয়ে গেল!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন